শিরকমুক্ত কবর মাজার
কবর জিয়ারত করতে ইসলামে উৎসাহিত করা হয়েছে। কারণ, কবর জিয়ারত করলে আখেরাতের কথা স্মরণ হয়। মাজার মানেই হলো, জিয়ারতের স্থান। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ মাজারসমূহে ইসলামী পদ্ধতিতে কবর জিয়ারতের পরিবেশ নষ্ট করা হয়েছে। বরং অধিকাংশ মাজারকে শিরক, বিদ'আত, গাঁজা, বেহায়াপনা ও আইন বিরোধী কার্যকলাপের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত করা হয়েছে। কিছু চুর ডাকাত মাস্তান ও খুনের আসামী পীর ফকিরের বেশ ধরে মাজারে আস্তানা গড়ে তুলেছে বলেও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জানা যায়।
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো, অনেক মাজারে আল্লাহ তালার ইবাদতের পরিবর্তে ওলী আওলিয়ার ইবাদত করা হচ্ছে। যেমন: মাজারে সেজদা করা, মানত মানা, মাজারের কাছে সন্তান, ধন সম্পদ চাকরি, নির্বাচনে বিজয়, স্বামী স্ত্রীর সুসম্পর্ক, বিপদ আপদ হতে উদ্ধার ইত্যাদি প্রার্থনা করা হয়ে থাকে - যা সুস্পষ্ট শিরক। বরকতের আশায় কবর-মাজার হতে বিভিন্ন কাজের সুচনা করা হয়। যেখানে আখেরাতের বিষয় স্মরণ হওয়ার উদ্দেশ্যে আসার কথা ছিল সেখানে আজ সরলমনা সাধারণ মানুষের আখেরাত ধ্বংস করা হচ্ছে। তাই আমাদের দাবি হলো:
১। কবর-মাজারকে সব ধরণের শিরক থেকে করতে হবে। যেমন: সেজদা করা ও মাথা নত করা ইত্যাদি।
২। মাজারের ওলীর নামে গরু, ছাগল, হাঁস, মোরগ, টাকা-পয়সা ইত্যাদি মানত করা, জবাই করা, উৎসর্গ করা নিষিদ্ধ করতে হবে।
৩। মাজারের ওলীর কাছে সন্তান, ধন-সম্পদ সুখ-শান্তি ইত্যাদি প্রার্থনা করা বন্ধ করতে হবে।
৪। মাজার ও মাজারের আশেপাশে গাঁজা বা নেশাদ্রব্য সেবনের আসর নিষিদ্ধ করতে হবে।
৫। নারী পুরুষের বেপর্দা ও অবাধ চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
৬। মাজারে নিয়মিত ও দলবদ্ধভাবে বসবাসকারীদের পরিচয় ও পরিসংখ্যান সুনিশ্চিত করতে হবে। ফকিরের বেশে কোনো পলাতক আসামী বা অপরাধচক্র যেন মাজারকে নিজেদের আশ্রয় কেন্দ্রে পরিণত করতে না পারে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
৭। ওরুশের নামে গান-বাজনা, নাচ, জুয়ার আসর, গিলাফ চড়ানো, বেহায়াপনা ইত্যাদি বন্ধ করতে হবে।
৮। বিশেষ করে প্রসিদ্ধ মাজার সমূহে সরকারের পক্ষ হতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে সুষ্টভাবে পরিচালনা ও তদারকি করতে হবে।
৯। দর্শনার্থীদেরকে শরিয়ত সম্মতভাবে শিরক-বিদআতমুক্ত করব জিয়ারতের করানের জন্য সরকারের পক্ষ হতে আলেম-উলামাদের স্থায়ীভাবে দায়িত্বশীল নিয়োগ দিতে হবে।
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে সব ধরণের শিরক হতে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমীন।।